অসন্তুষ্টি থেকে কিভাবে মুক্তি পাবে? 

অসন্তুষ্টি থেকে কিভাবে মুক্তি পাবে? 

রমেস একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকুরি করতো। একদিন তার এক বন্ধু তার খবর নিতে আসে। তারপর সেই বন্ধুটা কথা বলতে বলতে তার সেলারি কত জানতে চায়। রমেস বললো দশ হাজার। তারপর বন্ধুটা বললো শুধুমাত্র দশ হাজার। আরে এইটুকু সেলারি দিয়ে আজকে কি হয়। তুই এতটা পরিশ্রমি তোর বস তোকে এতটা কাজ করায় আর বদলে শুধু তোকে দশ হাজার টাকা মাইনে দেয়। ভাই তুই কি জানিস জিনিসের দাম কত বেড়েছে। আর তুই এখনও দশ হাজারে আটকে আছিস। হয়তো জেনে অথবা না জেনে সেই বন্ধু বন্ধুটি রমেস মনে অসন্তুষ্টি বীজ বপন করে দিয়েছে। সেই দিনের পর থেকে রমেসের আর কাজে মন ছিল না। সব সময় তার মনে এই ভাবনাটাই ছিল যে আমি ভুল জায়গায় আছি ভুল চাকুরি করছি আমার সেলারি কম এবং আমি আমার চাকুরি থেকে কম বেতন পাচ্ছি। ফ্রাজটেশন বেড়েই যাচ্ছিলো একদিন রমেস তার বস সেলারি বাড়ার কথা বলল তো বস মানা করে দেয়। আর রেগে গিয়ে রমেস জবটাই ছেড়ে দেয়। রমেস বে-রোজগার হয়ে গেলো। প্রথমে তার কাছে একটা চাকুরি তো ছিল এখন সেটাও নেই। তোমার হাসবেন্ট তোমাকে গিফট্ অব্দি দেয় নি। তোমার ওয়াইভ তোমার জন্য এতোটুকু করতে পারে না। এতো কম সেলারি ভেকেশনে কোথায় গেছো। অজান্তেই এইসব কথা আমাদের কেউ না কেউ অবশ্যই বলে যার পরিণাম আমাদের জন্য অবশ্যই ভালো হয় না। অসন্তুষ্টি একটি বিষ যা আমাদের ভেতরে ভেতরে শেষ করে দেয়। আর এটা তখনি জন্ম নেয় যখন তুমি অন্যের কাছে কি আছে অন্যের পাটনার কি করেছে অন্যের সেলারি কত বেশি এইসব কিছুকেই তোমার সাথে কমপেয়ার কর। যদি তোমার সাথেও কেউ এইভাবে কথা বলে তো আজকেই তার থেকে দূরে সরে যাও। কারণ সে তোমার মধ্যে বিষের বীজ বপন করছে যার ক্ষতি শুধুমাত্রই তোমাকে ভোগ করতে হবে। হতেও পারে সে অজান্তেই এ রকম কথা বলছে কিন্তু ক্ষতি তো তোমারি হবে। যদি তুমিও এমন হয় অজান্তেই এমন কথা বলো তাহলে অবশ্যই ধ্যান রাখবে যে এই কথাটা অন্যের উপর কি প্রভাব ফেলবে। সোস্যাল মিডিয়া অনেক রিলেশনকে বিষাক্ত করে দিয়েছে যেখানে সবাই পার্ফেক্ট লাইফ পার্ফেক্ট রিলেশোনশিপের ফটোর প্রদর্শনী লাগায় অন্যদের এটা দেখে লেগে পড়ে আছে যে তাদের লাইফ কতটা ভালো চলছে। সব ঝগড়ারি মূল কারণ হলো এক্সপেক্টটেশন। এমন একটা পার্ফেক্ট লাইফের এমন একটা পার্ফেক্ট পাটনারের যা তোমার মনে এই সোস্যাল মিডিয়া ঢুকিয়ে দিয়েছে। আমরা স্বপ্নের দুনিয়াতে জীবন-যাপন করতে পছন্দ করছি। আমাদের এমন দুনিয়া চাই যা একদমি পার্ফেক্ট হবে আমাদের জীবন সাথী একদমি পার্ফেক্ট হবে। আর বাস্তবের দুনিয়াতে এটা একদমি পছিবল নয়। আর যখন আমরা আমাদের লাইফ পাটনারের কিছু না কিছু কম দেখি যখন আমাদের লাইফে কিছু কম মনে হয় আমাদের নিজের চাকুরি কম মনে হয় ঠিক তখনি আমরা অসন্তষ্টি হয়ে যাই কাজে মন লাগা বন্ধ হয়ে যায়। রিলেশন শিপে ফাটল আসতে থাকে। নিজেই বিচার করবে যে এক্সপেক্টটেশন আমাদের সব সমস্যার মূল কারণ নয় কি। যতক্ষণ তুমি অন্যকে দেখতে থাকবে না তুমি জীবনে সফল হবে না তোমার রিলেশনশিপ ভালো হবে। নিজের লক্ষ্যে এতটাই জোশ ভরে দাও যে সব সফলতাই অর্জন হয়ে যায়। নিজের স্বপ্নে এতো টাই প্রাণ ভরিয়ে দাও যাতে সব সমস্যাই দূর হয়ে যায়। এমন জীবন আরও একবার কোথায় পাবে। জীবনে এমনভাবে বাঁচো যেখানে বড় বড় তুফানও তোমার পায়ে মাথা নত হয়ে যায়। আলোচনায় বলা কথা গুলো নিজেই একবার বিচার করে দেখবে। আমাকে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবে তোমার জীবনের লক্ষ কি? ‍আলোচনাটি ভালো লেগে থাকলে অনেক অনেক শেয়ার করবে। তোমাদের এই সুন্দর সুন্দর কমেন্ট আমাদেরকে নতুন আলোচনা বানাতে মোটিভেট করে ও সব সময়ি বিনাপানির সঙ্গে যুক্ত থাকো।

COMMENTS

Leave a Comment