আধুনিক কালে মানসিক নিরাময়

আধুনিক কালে মানসিক নিরাময়ঃ-

কী নিরাময় করে? এই নিরাময় শক্তিটি কোথায় এবং কী করে এটি বাস্তবে ব্যবহার করা যায়? আমাদের সবার মনের প্রধান প্রশ্ন এগুলো। সকলের জন্য এসব প্রশ্নের জবাব হলো: এই নিরাময় শক্তিটি হলো প্রতিটি মানুষের অবচেতন মন এবং একজন অসুস্থ মানুষের পরিবর্তেত মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি এই রোগ নিরাময় শক্তিটি রিলিজ করে দেয়।

প্রবাদ আছে, ডাক্তার ক্ষত ড্রেসিং করে দেয়, ঈশ্বর তা সারিয়ে তোলেন। সাইকোলজিস্ট কিংবা সাইকিয়াট্রিস্টরা রোগীর মনের মেন্টাল ব্লকগুলো সারিয়ে ফেলে তাকে সুস্থ করে তোলে। মেন্টাল ব্লকগুলো সারিয়ে দিলে রোগীর রোগমুক্তির নিয়মনীতিগুলো মুক্ত হয়ে যায়। এবং রোগীর স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার হয়। একইভাবে সার্জন ফিজিকাল ব্লকগুলো সারিয়ে ফেলে নিরাময় স্রোতকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করার উপযুক্ত করে তোলে। কোন ডাক্তার, সার্জন কিংবা মেন্টাল সায়েন্স প্রাকটিশনার ন্যায়সঙ্গতভাবে দাবি করতে পারেন না যে তিনি রোগীকে সারিয়ে তুলেছেন। একটি নিরাময় শক্তিকে নানা নামে সম্বোধন করা চলে-প্রকৃতি, জীবন, ঈশ্বর, সৃজনশীল বুদ্ধিমত্তা- কিন্তু বাস্তবে এ সবই আসলে অবচেতন মনের ক্ষমতা।

রোগ নিরাময়ের নিয়মনীতিগুলো আপনার অবচেতন মনের মধ্যে বাস করে, আপনি বা অন্য কারও দ্বারা এটি যথার্থভাবে পরিচালিত হলে এ আপনার মন এবং শরীর থেকে সমস্ত রোগ মুক্তি ঘটাতে পারে। এই ‘হিলি প্রিন্সিপল‘ ধর্মমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর লোকের জন্য কাজ করে। এ ক্ষমতাটি ব্যবহার করার জন্য আপনাকে বিশেষ কোনো গির্জা কিংবা মন্দির মসজিদে যেতে হবে না। আপনি নাস্তিক হলেও আপনার অবচেতন মন ঠিকই আপনার হাতের কাটা কিংবা পোড়া ক্ষত সারিয়ে তুলবে।

আধুনিক মানসিক নিরাময়ের ভিত সেই সত্যের ওপর গড়ে উঠেছে যা আপনার অবচেতন মনের অসীম বুদ্ধিমত্তা এবং ক্ষমতা আপনার বিশ্বাস অনুসারে সাড়া দেয়। মেন্টাল সায়েন্স প্রাকটিশনার কিংবা ধর্মযাজকরা বাইবেলের আদেশ মেনে চলেন। তারা দরজা বন্ধ করে ধ্যান করেন। ধ্যানের সময় তাদের মন বাইরের সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অবচেতন মনের কাছে তারা তাদের আকাঙ্খা বা ইচ্ছেগুলোকে তুলে ধরেন। তারা জানেন তাদের বুদ্ধিমান মন তাদের প্রয়োজন অনুসারে সাড়া দেবে।

Leave a Comment