এখন কেউ আমাকে ভালোবাসলে খুশির চেয়ে বেশি অবাক হই। আর আঘাত করলেও কষ্ট পাই না

এখন কেউ আমাকে ভালোবাসলে খুশির চেয়ে বেশি অবাক হই। আর আঘাত করলেও কষ্ট পাই না

খুব প্রিয় একজন সিনিয়র ফার্স্ট ইয়ারে থাকতে বলেছিলেন – “ভার্সিটির কোনো ফ্রেন্ডের কাছে কোনো এক্সপেকটেশন রাখবা না। কেউ যদি নিজ থেকে কিছু করে তাহলে সেটা বোনাস। আর কোনো প্রতিদান না পেলে কষ্ট পাবা না।” ভার্সিটিতে সব সাপ সাপ করে ভুজুং ভাজুং চিল্লানোর কোনো মানে নেই আসলে। আপনি নিজেও তাই। আর নাহলে বোকা। স্বার্থপরতা দুই রকম হয়। ১/স্বভাবগত ২/ ম্যাচিউরিটি প্রথম প্রকারের স্বার্থপর স্কুল কলেজ সব জায়গায় আছে। ভার্সিটি যেহেতু বিশাল ক্ষেত্র এখানে মানুষের ভ্যারিয়েশনও বেশি, মেন্টালিটির কনফ্লিক্টও বেশি। আর দ্বিতীয়টা কেবল ভার্সিটিতে। জীবনের বেশ বড় একটা পিরিয়ড কাটিয়ে আসার পর বেশিরভাগ মানুষই ততদিনে এটা বুঝে যায় কেউ কারো আপন না। কারো জন্য নিঃস্বার্থভাবে কিছু করে প্রতিদানতো দূরে থাক মনে জায়গাটুকুও পাওয়া যায় না। যতই ফ্রেন্ড বেস্ট ফ্রেন্ড ক্লোজ ফ্রেন্ড বানিয়ে হৃদয় ঢেলে দিয়ে সম্পর্ক বানান না কেউ দূরত্ব বাড়লেই তারা অচেনা হয়ে যায়। খুব আপন ভাবা মানুষদের কাছ থেকে পাওয়া ক্রমাগত আঘাত মানুষকে পাথর করে দেয়। তখন আর নতুন করে ফুল ফোটানোর শক্তি বেঁচে থাকে না। তাই ততদিনে মানুষ নিজেকে ভালোবাসতে শুরু করে, নিজেকে প্রায়োরিটি দেওয়া শিখতে থাকে। আগের মতো আবেগিক না হয়ে বাস্তবতায় বিচার করে। চলে আসে লাভ লোকসানের হিসাব। যে একসময় নিজের কথা কখনো না ভেবে কেবল সবাইকে ভালো রাখতে চাইতো সেও ভাবে আর নাহ, নিজের সাথে অনেক অন্যায় হয়েছে। অন্যের জন্য ভাববে তবে নিজেরটা ঠিক রেখে। কাউকে মাথায় তোলা যাবে না আর। এভাবেই ভার্সিটির পরিবেশটা স্বার্থপরতায় ভরে যায়। কেউ কাউকে ভরসা করতে পারেনা পুরোপুরি। যারা এসবে হতাশ হয় বা কষ্ট পায় তাদেরকে আমার ইমম্যাচিউরড মনে হয়। আমিও ছিলাম একসময়। ফ্রেন্ডশিপ নিয়ে ফ্রাস্টেশনে ছিলাম তখন। সবার জন্য কষ্ট করেও কারো কাছ থেকে মেন্টাল সাপোর্টটাও পেতাম না। দীর্ঘদিনের বেস্ট ফ্রেন্ডদের সাথে কিছু দিনের দূরত্বে সম্পর্কের বিশাল ভাটা পড়লো। কোনদিন আমাকে বোঝেনি টের পেলাম সাথে এটাও যে কখনো আমি কেউ ছিলামই না। হাড়ভাঙ্গা খাটুনির চরম ব্যস্ততার দিনগুলোর মধ্যে ফ্রেন্ডশিপ বলে আর কিছু রইলো না। খারাপ লাগতো যখন দেখতাম দিনশেষে কথা বলার মতো কেউ বাকি নেই। ভার্সিটির ফ্রেন্ডরা ভার্সিটির বাইরে আর কেউ না। আর সো কলড বেস্ট ফ্রেন্ডদের অনেক অনেক বেস্টফ্রেন্ড হয়ে গেলো। আমি ইগনোরড লিস্টে। প্রচন্ডরকমের বন্ধুহীনতায় ভোগা একটা সময় গেলো। ওই সময়ে আপুর বলা কথাগুলো মাথায় নিলাম। এক্সপেকটেশন বাদ দিতে শুরু করলাম। দুনিয়ায় কেউ কারো মন বুঝবে না, কেয়ার করবে না, নিঃস্বার্থ ভাবে কিছু করবে না এটাই স্বাভাবিক। করাটাই বরং অস্বাভাবিক। কষ্টগুলো হালকা হয়ে গেলো। এখন কেউ আমাকে ভালোবাসলে খুশির চেয়ে বেশি অবাক হই। আর আঘাত করলেও কষ্ট পাই না। আগের চেয়ে অনেক কম কথা বলি কারণ নিজের একান্ত কথাগুলো শেয়ার করার মতো মানুষ এখন আমার নেই, প্রয়োজনও হয় না। মানুষ যখন নিজেকে ভালোবাসতে শুরু করে তখন নিজেই নিজের সবচেয়ে বড় বন্ধু হয়ে যায়। কষ্ট আনন্দ ভাগ করার জন্য অন্য কাউকে লাগে না। তাই সবকিছু এখন বেশ সহজ লাগে। ফ্রেন্ডশিপ নামক মিথোজীবিতার মিথ থেকে বেরিয়ে মানবিকতাকে আঁকড়েই ভালো থাকা যায়। সবার জন্য যতটা বিবেক করতে বলে ততটাই করা উচিত, আবেগ আসলেই বিপদ। মানুষের কাছ থেকে সব এক্সপেকটেশন রাখার দরকারই নেই কারণ সৃষ্টিকর্তাই সময়মত যা পাওয়ার দিয়ে দেন। নিজের মতো ভালো থাকতে শেখাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। সাপের রাজ্যে সাপ হয়ে থাকলেই ঝামেলা শেষ। বিষের ভয় নেই।

Nur E Taj Jahan

Dhaka University

Leave a Comment