গরীবের কষ্টের কথা কেউ বোঝেনা কখনো, অভাবের কষ্ট

গরীবের কষ্টের কথা কেউ বোঝেনা কখনো

মানুষ মোটা চালের ভাত কেনো খায় জানেন যাতে ভাতটা হজম হতে সময় লাগে। পেটে অনেক ক্ষণ থাকে। তাড়াতাড়ি ক্ষিধে যেনো না লাগে। কারণ পরের বেলায় খারারের যোগান কষ্ট কতটা বাছ এই যোগান করার কষ্টটা কতটা সেটা কেবল মাত্র সেই জানে। ঠিক তেমনি মোটা কাপড় কেনো পড়ে জানেন কাপড় যাতে আল্প কিছুদিনে ছিড়ে না যায়। নিত্য নতুন কাপড় কেনার ক্ষমতা তার যে একদমেই নাই। এমনি হাজার প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী তাকে খুব হিসার করে বেছে গুছে কিনতে হয়। ইচ্ছা করলেই বাজারের বড় ইলিশটা কেনা যায় না। বা বড় চিংড়িটা কেনা যায় না। ইলিশের জায়গায় ছোট ইলিশ সেটাও কিন্তু সে কিনতে পারে না বা ছোট রুই মাছ সেটা কিন্তু সে কিনতে পারে না। গুড়া মাছ থাকে আর সাথে থাকে কিছু শাকসবজি এবং পকেটে টাকার পরিমাণ কাটায় কাটায়  হিসেব করে প্রয়োজনীয় সবকিছু কিনে তাকে কিন্তু বাড়ি ফিরতে হয়। বাড়ি ফিরলে ছোট ছোট ছেলে মেয়েগুলো যখন দৌঁড়ে এসে ঝাপিয়ে পড়ে কিংবা ঐসয্য সেই বাজেটের ব্যাগে তাদের প্রিয় খাবার গুলো খুঁজে। আর তা না পেয়ে মাথা নিচু করে আস্তে আস্তে সরে যায়। তখন সেই বাবা কিংবা মায়েই কেবল বোঝে যে অভাব কি জিনিস। অভাব বাচ্চার মুখের হাসি পর্যন্ত কিন্তু কেড়ে নেয়। তবুও কিছু বাচ্চা অভাবের সাথে লড়াই করতে শিখে যায়। বাবা মায়ের মুখে হাসি ফোঁটায়। তার আদরে বুলিতে ইলিশ মাছের চেয়েও যে না গুড়া মাছটাই ভালো। গুড়ো মাছগুলো তারা খায় এবং তারা এটা ভাবে গুড়া মাছগুলো তাদের পুষ্টি গুণও বেশি দেবে। চকলেট তাদের ভাগ্যে তো জুটেই না। চকলেটের ওয়াদার খেলে নাকি দাঁতে পোকা হয়। বিস্কুট জলে ভিজিয়ে খায়। তবুও তাদের জীবনে চকলেট জুটে নাই। তাই যে পথে কেউ কোনোদিন হাঁটে নি। সে সেই পথে কাঁটা যুক্ত অভিঙ্গতার ব্যথা কোনোদিনও বুঝবে না। অনেকে আমাকে কমেন্ট করে এটা জানায় যে আমি সবথেকে দুঃখে আছি। আমি সবথেকে দুঃখে আছি বা আমার কষ্টটা কেউ অনুভব করে না। একবার ভাবেন তো বন্ধু পৃথিবীর আনাচে কানাচে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এমনও মানুষ আছে যাদের এতোটাই অভাব যাদের দুবেলা খাওয়ার জন্য চাল চুলোটাও নেই। যাদের যেকোন কিছু করার জন্য একবার নয় কুড়ি পঁচিশ বার ভাবতে হয়। যেকোন কিছু কেনার জন্য তাকে মেপে মেপে জিনিসটা কিন্তু কিনতে হয়। এমনকি তাদের ঘরও নেই মাথার উপরে ছাদটাও নেই। আপনি যখন কষ্টে থাকেন বা দুঃখে থাকেন তখন অন্তত পক্ষে নিজের বিছানার বালিশটার মধ্যে শুয়ে কাঁদতে পারেন। তো ঠিক ভেবে দেখুন কারা সবথেকে বেশি দুঃখি। আপনার দুঃখটা সব থেকে বেশি না তাদের দুঃখটা সব থেকে বড়ো। অনেকে তো অন্যের সমালোচনা দিব্যি করে দেয়। দিব্যি মুখে বড়ো ডায়লগ বলে দেয়। বলে অনেক কিছু কিন্তু তারা কখনো ভাবে না যে আমরা যখন পৃথিবীতে এসেছিলাম তখন ঠিক কিভাবে এসেছি আর যাবো তখন ঠিক কিভাবে যাবো। মানে শূন্য হাতে এসেছিলে আর শূন্য হাতেই যাবে। এই বাকি সময়টার মাঝে যার সাথেই তুমি যতো অভিনয় করে যাও কেহই তোমার সঙ্গ দেবে না। তোমার নিজের কাছের মানুষটাও তোমার মৃত্যুর সময় আপন হবে না।  

Leave a Comment