বাইবেলে অবচেতন মনের ক্ষমতার ব্যবহার

বাইবেলে অবচেতন মনের ক্ষমতার ব্যবহারঃ

“তুমি যাহা আকাঙ্কা করো, প্রার্থনার সময় যদি তুমি বিশ্বাস কর যে তুমি উহা পাইবে, তবে অবশ্যই পাইবে”

যীশাস বিশ্বাসের ওপর জোর দিতেন। বাইবেলে বিশ্বাসকে বর্ণনা করা হয়েছে চিন্তার একটি পথ হিসেবে, মনের একটি ভঙ্গি, একটি অভ্যন্তরীণ নিশ্চয়তা, সেই আইডিয়াকে বোঝা যা আপনার সচেতন মন পুরোপুরিভাবে গ্রহণ করবে এবং আপনার অবচেতন মনে তা অন্তর্ভুক্ত হবে এবং তৈরি করবে স্পষ্টতা। বিশ্বাস হলো এক কথায় সত্য বলে গ্রহণ করা যা আপনার ব্যাখ্যা এবং অনুভুতি অস্বীকার করে।

রোগ নিরাময়ের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণটি এখানে বাইবেল থেকে উদ্বৃতি হলো:

‘এবং যখন তিনি বাড়িতে আসিলেন, অন্ধ মানুষগুলি তাহার কাছে আসিল। যীশাস তাহাদেরকে বলিলেন তোমরা কি বিশ্বাস করো যে আমি ইহা করিতে সক্ষম? তাহারা তখন বলিল হ্যাঁ, প্রভু। তখন তিনি তাহাদের চক্ষু স্পর্শ করিয়া বলিলেন, তোমাদের বিশ্বাস অনুসারে ইহা তোমাদের ওপর বর্ষিত হউক এবং তাহাদের চক্ষু খুলিয়া গেল এবং যীশাস তাহাদেরকে বলিলেন, দেখিলে তো ইহা কোন মানুষ জানে না।’

‘তোমাদের ওপর বিশ্বাস বর্ষিত হউক’ বলে যীশাস অন্ধ মানুষগুলোর অবচেতন মনের কাছে সহযোগীতার জন্য খোলাখুলিভাবে সরাসরি আবেদন করেছিলেন। তাদের বিশ্বাস ছিলো তাদের সুবিশাল প্রাত্যাশা, তাদের অভ্যন্তরীণ অনুভূতি, তাদের অভ্যন্তরীণ প্রত্যয় যে অলৌকিক কোনো ঘটনা ঘটবে এবং তারা তাদের প্রশ্নের জবাব পাবে। এবং তাই হয়েছে।

দেখিলে তো ইহা কোনো মানুষ জানে না কথাটি বলে যীশাস আসলে নিরাময় হওয়া মানুষগুলোকে অনুরোধ করেছিলেন তারা যেন তাদের রোগ নিরাময়ের এ বিষয়টি নিয়ে অন্য কারও সঙ্গে আলোচনা না করে। আলোচনা করতে গেলে সন্দেহবাদী, অবিশ্বাসী মানুষজন তাদেরকে নাজেহাল করতে পারে। তখন যীশাসের কাছ থেকে প্রাপ্ত উপকারের ক্ষমতা অবচেতন মনে ভয়, সন্দেহ ও উদ্বেগ জমা হওয়ার কারণে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

যীশাসের কাছে অসুস্থ্য মানুষ রোগ নিরাময়ের জন্য আসত, তারা রোগ মুক্ত হতো মূলত: তাদের নিজেদের বিশ্বাসের কারণে এবং অবচেতন মনের নিরাময়যোগ্য ক্ষমতাটি বুঝতে পারত বলে। যীশাস যাই আদেশ করতেন না কেন, মন থেকে বিশ্বাস করতেন তা সত্যি। তার এবং লোকের যে সাহায্যের প্রয়োজন ছিল তা আসলে ইউনিভার্সাল সাবজেকটিভ মাইন্ডের মধ্যে ছিল, এবং তার নিরব অভ্যন্তরীণ জ্ঞান ও নিরাময় করার ক্ষমতার প্রতি প্রত্যয় রোগীর অবচেতন মনে লুকিয়ে থাকা নেতিবাচক ধ্বংসাত্মক প্যাটার্ন বা নকশা বদলে দিত। ফলস্বরুপ যে নিরাময় ঘটত তা ছিল অভ্যন্তরীণ মানসিক পরিবর্তনের প্রতি স্বয়ংক্রিয় সাড়া। তিনি যে আদেশ করতেন তা রোগীদের অবচেতন মনের প্রতি আবেদন ছিল, সে সঙ্গে তার সচেতনতা, অনুভূতি এবং সম্পূর্ণ বিশ্বাসের প্রতি সাড়া দিত অবচেতন মন, কারণ তিনি কর্তৃত্বের সাথে কথাগুলো বলতেন।

Leave a Comment