বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মন্দিরের অলৌকিক ঘটনা

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মন্দিরের অলৌকিক ঘটনাঃ-

প্রতিটি মহাদেশে, প্রতিটি দেশে মন্দির রয়েছে যেখানে মানুষ যায় সুস্থ হওয়ার আশায়। কিছু মন্দির রয়েছে বিশ্বখ্যাত। কিছু অখ্যাত। সেখানে শুধু স্থানীয় মানুষজন যায়। বিখ্যাত হোক বা অখ্যাত, এসব মন্দিরে রোগমুক্তির যেসব ঘটনা ঘটে তা অবচেতেন মনের একই ক্ষমতার জন্য, একই কারণে ঘটে। আমি জাপানের বহু বিখ্যাত মন্দিরে গিয়েছি। এর মধ্যে বিশ্বখ্যাত মন্দির হলো দিয়াবৎসু। এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো বিয়াল্লিশ ফুট উঁচু, ব্রোন্জের এক বিরাজ মূর্তি। এটি বুদ্ধের মুর্তি। তিনি হাত মুড়ে বসে আছেন, মুখে অদ্ভুত প্রশান্তি।

আমি এখানে দেখেছি তরুণ, যুবা, বৃদ্ধ সকলেই বুদ্ধের মূর্তির পায়ের কাছে তাদের অর্ঘ নিবেদন করছে। উপহারের  মধ্যে রয়েছে টাকা-পয়সা, ফলমূল, চাল, কমলা ইত্যাদি। এখানে মোম জ্বালানো হয়, আগরবাতি পোড়ানো হয় এবং প্রার্থনা করা হয়। আমি একবার এক তরুণীর প্রার্থনা শুনতে পাই। সে মাথা নিচু করে প্রার্থনা করছিল। বুদ্ধকে দুটি কমলালেবু দিচ্ছিল উপহার হিসেবে। বুদ্ধকে সে ধন্যবাদ দিচ্ছিল আবার গলায় স্বর ফিরে পাবার জন্য। সে তার গানের গলা হারিয়ে ফেলেছিল, তবে মন্দিরে এসে আবার সে হারানো সুর ফিরে পায়। তার সরল বিশ্বাস ছিল যে কিছু নির্দিষ্ট পূজাচর্চা করলে, উপবাস রাখলে এবং কিছু নির্দিষ্ট অর্ঘ দিলে বুদ্ধ তার গানের গলা ফিরিয়ে দেবেন। সে মন থেকে বিষ্বাস করতে শুরু করে। তার অবচেতন মন তার এ বিশ্বাসে সাড়া দিয়েছিল।

কল্পনাশক্তির ক্ষমতা এবং অন্ধ বিশ্বাসকে কখনও বাড়িয়ে বলার জিনিস নয়। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থে বসবাসরত আমার এক আত্মীয়। যে যক্ষ্মা রোগে ভুগছিল। তার ফুসফুস সাংঘাতিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার ছেলে সিদ্ধান্ত নেয় সে নিজেই বাবাকে সারিয়ে তুলবে। সে বাবার বাড়িতে গিয়ে তাকে বলে সম্প্রতি অদ্ভুত শক্তিসম্পন্ন এক ভ্রাম্যমান সন্ন্যাসীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে।

এ সন্ন্যাসীটি ইউরোপের এক মন্দিরে দীর্ঘদিন ছিলেন সেই মন্দিরে অসুস্থ মানুষদের সেবা দেয়া হয়। যীশুর মূল ক্রুশের ভগ্নাংশ বসানো একটি আংটি পেয়েছেন সন্ন্যাসী। ও ক্রুশ ছুঁয়ে নাকি কয়েক শতাব্দী ধরে অগনিত মানুষ রোগমুক্ত হয়েছে।

পুত্র এ গল্প শুনে সেই সন্ন্যাসীকে তার বাবার অসুস্থতার কথা বলে আংটিটি তাকে ধার দিতে বলে। সন্ন্যাসী রাজি হয়ে যান। পুত্র সন্ন্যাসীকে ৫০০ ডলার দিয়ে আংটিটি নিয়ে আসে।

পিতাকে আংটি দেখানো মাত্র বৃদ্ধটি ওটা তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। সে আংটিটি  বুকে চেপে ধরে, নিরবে প্রার্থনা করে এবং ঘুমাতে যায়। পরদিন সকালে সে পুরোপুরি সুস্থ। ক্লিনিকের সমস্ত টেষ্ট ভুল বলে প্রমাণিত হয়।

এ ধরনের রোগ নিরাময় সর্বদাই ঘটে চলেছে। এ গল্পের সবচেয়ে মজার দিকটি হলো ছেলেটি পুরো গল্পটিই তার বাপকে বানিয়ে বলেছিল। সে ফুটপাত থেকে সাধারণ এক টুকরো কাঠ কিনে নিয়ে এক স্বর্ণকারের কাছে যায় এবং কাঠের টুকরোটি অ্যান্টিক ডিজাইন তৈরি একটি সোনার আংটিতে বসিয়ে দেয়। তারপর সে এটি তার বাবাকে দেয়।

আপনারা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন ফুটপাত থেকে কেনা কাঠের টুকরাটি লোকটিকে সুস্থ করে তোলেনি। না, এ ছিল তার ভেতরকার কল্পনা, সঙ্গে যোগ হয়েছিল পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার প্রবল ইচ্ছা। কল্পনা যোগ দিয়েছিল বিশ্বাস বা সাবজেকটিভ অনুভূতির সঙ্গে, এবং যোগসাজশে লোকটির অবচেতন মনের ক্ষমতা তাকে সুস্থ করে তোলে।

পিতাটি কোনদিন জানতে পারেনি তার সঙ্গে কী চাতুরী করা হয়েছিল। জানতে পারলে তার রোগ বেড়ে যেত। বদলে সে যক্ষ্মা থেকে মুক্তি পেয়েছে। সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে এবং পরবর্তী পনের বছর সুস্থ দেহে বেঁচে থেকে উননব্বই বছরে মৃত্যুবরণ করে।

Leave a Comment