বিশ্বাসে নিরাময় কথার অর্থ কি এবং অন্ধ বিশ্বাস কিভাবে কাজ করে

বিশ্বাসে নিরাময় কথার অর্থ কি এবং অন্ধ বিশ্বাস কিভাবে কাজ করেঃ-

বিশ্বাসে নিরাময় বলে যে কথাটির সঙ্গে আমরা পরিচিত তার সঙ্গে বাইবেলের বিশ্বাস এর কোনো সম্পর্ক নেই। এটি হলো সচেতন এবং অবচেতন মনের প্রতিক্রিয়ার জ্ঞান। একজন ফেইথ হিলার হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এর ক্ষমতা এবং শক্তি সম্পর্কে জ্ঞাত নন এবং এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা না বুঝেই রোগ নিরাময় করেন। তিনি দাবি করতে পারেন রোগ নিরাময়ের ঐশ্বরিক ক্ষমতা তার রয়েছে এবং তার প্রতি একজন লোকের অন্ধ বিশ্বাস কাঙ্খিত ফলাফল এনে দিতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ট্রাডিশনাল হিলাররা তাদের রোগীদের নৃত্য, মন্ত্রোচ্চারণ কিংবা আত্মার আবাহনের মাধ্যমে সেবা করে থাকনে। একজন রোগী একজন সন্নাসীর দেহাবশেষ স্পর্শ করে সুস্থ হয়ে যেতে পারে, সুস্থ হতে পারে বিশেষ কোনো ভেষজের পানীয় পান করে। রোগী যাই করুক না কেন সবই কিন্তু করছে মনে গভীর বিশ্বাস নিয়ে। যার কারণে সে সুস্থ হয়ে উঠছে।

অন্ধ বিশ্বাস কীভাবে কাজ করে তার ‍উদাহরণ হিসেবে সুইস ডাক্তার ফ্রাঞ্জ অ্যান্টন মেসমারের কথা বলা যেতে পারে। ১৭৭৬ সালে তিনি দাবি করের তিনি চুম্বক বাদ দিয়ে রোগীর গায়ে স্বল্প দূরত্ব থেকে হাত বুলিয়ে তাদেরকে সুস্থ করেছেন। এই নতুন প্রতিক্রিয়াটির সাফল্য বর্ণনা করতে গিয়ে মেসমার ‘অ্যানিমান ম্যাগনেটিজম‘ তত্ত্বের কথা বলেন। তিনি বলেন এটি একটি ম্যাগনেটিক ফ্লুইড যা তার হাত থেকে নি:সৃত হয়ে রোগীর অসুস্থ শরীরের মধ্যে প্রবেশ করে এবং এই অ্যানিমান ম্যাগনেটিজই তাদেরকে সুস্থ করে তোলে। লোকে লাইন বেধে তার কাছে আসত এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরত বলে জানা যায়।

মেসমার প্যারিসে গিয়েছিলেন। সেখানকার সরকার তার এই রোগ নিরাময়ের বিষয়টি ভুয়া নাকি সত্য তা জানার জন্য একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। এ কমিশনের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স এর মেম্বাররা, তাদের মধ্যে বেঞ্জামিন ফ্রাংকলিনও ছিলেন। খুব ভালভাবে তনন্দ করার পরে কমিশন রিপোর্ট করে মেসমারের কাজে কর্মে কোনো বুজরুকি নেই। তিনি সত্যি মানুষকে রোগমুক্ত করতে পারেন। যদিও তার ম্যাগনেটিক ফ্লুইড থিওরির সত্যতার কোন প্রমাণ মেলেনি। ধারণা করা হয় রোগীদের কল্পনাশক্তিই তাদেরকে সুস্থ করে করে তুলতে ভূমিকা রেখেছে।

এর পরে মেসবার নির্বাসনে চলে যান। তিনি ১৮১৫ সালে যারা যান। এর কিছুকাল পরে ইংল্যান্ডের ম্যানচেষ্টারের ড. জেমস ব্রেইড প্রমাণ করেন ড. মেসমারের রোগ নিরাময়ের সঙ্গে ম্যাগনেটিক ফ্লুইডের কোনো সম্পর্ক ছিল না। ড. ব্রেইড আবিষ্কার করেছেন রোগীদেরকে সাজেশন দিয়ে সম্মোহন করা হতো। সম্মোহিত অবস্থায় তাদেরকে বলা হতো তারা সুস্থ হয়ে যাবে।

আপনারা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন এই মানুষগুলো সুস্থ হয়ে উঠেছিল তাদের সক্রিয় কল্পনাশক্তি এবং অবচেতন মনকে বলা শক্তিশালী সাজেশনের মাধ্যমে। একে সহজেই অন্ধ বিশ্বাস বলে অভিহিত করা যায় কারণ রোগী কিংবা ডাক্তার কেউই জানতনা কীভাবে তারা সুস্থ হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment