ব্যর্থতার প্রধান কারণ

ব্যর্থতার প্রধান কারণঃ-

অনেকবার ব্যক্তি একই জায়গায় নিজের জীবনের বেশ কিছু বছর পার করে দেন। কিন্তু তিনি যথােচিত পদোন্নতি পর্যন্ত প্রাপ্ত করেন না। উনি এই ব্যাপারে অবশ্যই চিন্তা করেন যে, ঠিক কোন কারণে তিনি সামনের দিকে এগােতে পারছেন না? ওনার প্রচেষ্টায় কি কোনাে প্রকারের অভাব থেকে গেছে? উনি কি ঠিকভাবে কাজ করে উঠতে পারছেন না? উনি কি নিজের ক্ষেত্রে নতুন তথ্য রাখেন না? এতকিছু ভাবনা-চিন্তা করার পরে একটাই নিষ্কর্ষে এসে পৌছানাে যেতে পারে যে, সেই ব্যক্তি ‘আমি সব জানি’-র মন্ত্র গ্রহণ করে রেখেছেন। এই কারণে তিনি নতুন কোনাে তথ্যকে নিজের কাছ পর্যন্ত পৌছাতেই দেন না।
ভারতের ইতিহাসকে বদলে দেওয়া এক ঘটনা এই প্রকারের রয়েছে। আপনারা এটা নিশ্চয়ই শুনে থাকবেন যে, সম্রাট পৃথ্বীরাজ চৌহান মােহম্মদ ঘােরীকে ১৭বার প্রচণ্ডরকম পর্যদস্ত করেছিলেন। অনেকবার ওনার পরামর্শদাতারা ওনাকে নীতি অনুসারে এমন পরামর্শও দিয়েছিলেন যে, ঘায়েল সাপ আর অপমানিত শত্রুকে কখনাে জীবিত ছেড়ে রাখা উচিত নয়, কিন্তু পৃথ্বীরাজ চৌহানের নিজের শক্তি, নিজের রণনীতি আর নিজের সেনাবাহিনীর ওপরে অগাধ বিশ্বাস ছিল। উনি মােহম্মদ ঘােরীকে প্রতিবার জীবিত ছেড়ে দিতেন। পরে যখন অষ্টাদশবার ঘােরীর। ফৌজ হামলা চালাল, সেই সময় পরিস্থিতি, রণনীতি আর বাহাদুরী পঙ্খীরাজ । চৌহানের সহায় হল না। এই একবার পরাজয়ের কারণে ভারতে একের পর এক মুসলিম শাসকদের শাসন ব্যবস্থা কয়েম হয়ে চলল আর পৃথ্বীরাজ চৌহানের মতাে সতন হয়ে পড়ল। এটা অন্য কথা যে, সেই সব মুসলিম শাসকের মধ্যে যেমন- হুমায়ুন, আকবর, জাহাঙ্গীর এবং শাহজাহানরা আলাদা আলাদা নতন্তে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন, কিন্তু মােহম্মদ ঘােরীর বিজয় এটা প্রমাণিত অচল যে, যদি কোনাে ব্যক্তি যে কোনাে পরিস্থিতিতে বিজয়ী হওয়ার। নতল করে নেন, তাহলে তিনি নিশ্চিতরূপে সফলতা প্রাপ্ত করেন। মহান জান্ডারের বিশ্ব বিজয়ের কাহিনীর মধ্যেও এই রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, যে কে কখনাে সর্বশ্রেষ্ঠ আর সর্বজ্ঞানী না মনে করে যে ব্যক্তি নিজের চোখ-কান বেখে বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের পরামর্শ অনুসারে কাজ করে চলেন, তাকে কখনাে এর মুখ দেখতে হয় না। আলেকজেন্ডার যে কোনাে দেশ আক্রমণ করার আগে সকল প্রকারের তথ্য একত্রিত করে নিজে সেগুলাের অধ্যয়ণ করতেন। উনি এমনটা লতেন—‘শত্রুর ব্যাপারে সেই সব হাজার তথ্য আমাকে কোনাে লাভই প্রদান। ভরবে না, যেসব তথ্য আমার জানা আছে, বরং যে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমার। জানা নেই, সেটা আমার সৈনিকদের নরসংহারের কারণ হয়ে উঠতে পারে।’
আপনাদের যদি ভাগ্যের সাথে লড়াই করে সফলতা অর্জন করতে হয়, তাহলে আপনাদের সর্বদা এটা মাথায় রাখতে হবে যে, কোনাে জ্ঞানই কখনাে সম্পূর্ণ হয়। । সেই ব্যক্তিই বেশি সফল হন, যিনি এই পূর্ণতা হাসিল করার জন্য লাগাতার
প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।

Leave a Comment