মাশরাফি বিন মর্তুজা হয়ে ওঠার কাহিনী

মাশরাফি বিন মর্তুজার জীবনী

দাদা বাড়ী আর নানা বাড়ীর দুরত্ব ছিল মাত্র পাঁচ মিনিট। তাই জন্মের পর থেকে দাদী নানীদের আদর পেয়ে বড় হয়েছেন তিনি। অতিরিক্ত আদরে বাদর হওয়াটাই স্বাভাবিক। হয়েছিলোও তাই। সারাদিন দুরদ্যপনা খেলাধুলা করতে তার কোনো ক্লান্তি ছিলো না। সব ক্লান্তি শুধু তার পড়াশোনাতেই। পড়াশোনা করতে চাইতো না বলে ব্যবসায়ী বাবা শাসন করেছেন অনেক। মাঠ শুকনো থাকলে ক্রিকেট বা ব্যাটমিনটোন আর ভেজা থাকলে ফুটবল খেলায় মেতে থাকতো ছেলেটা। গ্রামের যেকোনো টুর্নামেন্ট থাকলে তো কথাই নেই। স্কুল সেদিন পালাতেই হবে তার। এজন্য বাবার মার খেতে হয়েছে বহুবার। চিত্রা নামের নদীর কোল ঘেসে দাঁড়িয়ে আছে নড়াইল গ্রামটি। এর আগে নদী নির্ভর গ্রাম বলায় শ্রেয় হবে। বাড়ী থেকে নদীর দূরত্ব এক ছুটে ঘুচিয়ে দেয়া যায়। তাই তো ছোট বেলায় বাড়ির উঠান আর নদীর মাঝের সরু রাস্তা থেকে নদীকে আলাদা করতে পারতো না কোন ভাবেই। এক ছুটে নদীতে আছড়ে পড়তো বন্ধুদের নিয়ে।
ফ্রিতে PDF বই নিতে চাইলে নিচের লেখা বা ছবিতে ক্লিক করুন>>>




নদীর কোন কোন জায়গায় ঝাঁপ দিলে বেশী মজা পাওয়া যায় তা খুঁজে খুঁজে বের করতো ছেলেটা। একবার তো চরা বালীতেও ডুবতে বসেছিলো। ভাগ্য সুপ্রসৌন্য থাকায় সেবার বেঁচে গিয়েছিলো সে। বাঁচতে তো তাঁকে হতোই। ছোট বেলায় দাঁতে ব্যথা হওয়ায় বাবা তাকে নিয়ে গেলেন হাসপাতালে। ডাক্তার বললেন মাড়িতে ইনজেকশন দিতে হবে। ইনজেকশনের নাম শুনে তড়িহড়ি  করে ছুটে পালাতে চাইছিলো। কে জানে এই ছেলেটাই একদিন নিজ হাতে নিজ পায়ে ইনজেকশন দিবে। ২১ বছরের টগবগে তরুণ একদিন ব্যথায় বালিসের মুখ বুজে কাঁদবে কিন্তু দেশকে কাঁদতে দিবে না। কিশোর থেকে তারুণ্যে পা দেওয়া ছেলেটির আগ্রহ ছুটে যায় ক্রিকেটের দিকে। ব্যাটিং করতে খুব পছন্দ করতো সে। বরাবরেই কিছুটা মারকুটে হয়ে ব্যাটিং করতো ছেলেটা। কিন্তু সময়ের আবর্তনে সে হয়ে উঠে জনপ্রিয় পেস বলার। প্রচন্ড দুরন্তপনা আর বাইক নিয়ে গ্রামের এমাথা ওমাথা ছুটে বেড়ানো আর সুন্দরী মেয়ে দেখলেই তার প্রেমে পড়ে যাওয়াটাই ছিলো ছেলেটার কাজ। কলেজে পড়াকালীন সময়ে একটা মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়ান ছেলেটা। সম্পর্কটা অনেক দিন টিকিয়েছিলো। কিন্তু ব্যক্তি গত কারণে এই সম্পর্কের ইতি টানতে হয়েছিলো তাকে। পরবর্তী কয়েকটা দিন খুব কষ্টে কেটেছিলো তার। ঠিক মতো ‍খাওয়া দাওয়া করতো না কারো সাথে কথাও বলতো না সে। চুপ চাপ মাথা নিচু করে কলেজে যাওয়া আসা করতো। তার এই মন মরা ভাব দেখে খারাপ লাগতো সহপাঠি সুমির। সামনেই পরীক্ষা অথচ পড়াশোনা কিছুই হয়নি ছেলেটির। সুমি নিজে তখন ক্লাসের পড়াশোনা বুঝে দেওয়া এবং সাজেশনও নোট  দিয়ে সাহায্য করতো। পাশাপাশি বাড়ি হওয়া ছেলেটি সুমির কাছ থেকে পড়াশোনা সক্রান্ত সাহায্য নিতো। এভাবে জীবনে শেষ বারের মতো প্রেমে পড়লো সে। এই সুমিকে জীবন সঙ্গী করেছিলেন তিনি। তবে প্রেমকে পরিনয় নিয়ে যেতে কম চড়ায় উতড়ে পেড়োতে হয়নি তাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ক্রিকেট খেলায় তীব্রভাবে  ঝুঁকে যাওয়ায় গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা হয়ে উঠে না তার।
ফ্রিতে PDF বই নিতে চাইলে নিচের লেখা বা ছবিতে ক্লিক করুন>>>




ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আক্রমনাত্তক বোলিং করে অনুর্ধ্ব ১৯ দলে থাকতেই অনেকের নজর কাড়েন তিনি। এর পরের গল্পটা তো সবার জানা। নড়াইল এক্সপ্রেজ the prince of heats, boss, mash এ রকম হাজারো উপাধি নিয়ে কোটি প্রাণে জায়গা করে নেওয়া সেই ছেলেটির নাম মাশরাফি বিন মর্তুজা। ১০৬ রানে ৪ ইউকেট নিয়ে নিজের প্রথম আর্ন্তজাতিক ম্যাচেই নিজের জাত চিনিয়ে দেন মাশরাফি। এরপর আর পেছনে ফিরে দেখতে হয় নি। তড়তড় করে মাশরাফির হাত ধরে আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে উপরে উঠে যায় বাংলাদেশ। কথায় আছে না কষ্ট না করিলে কেষ্ট মিলে না। মাশরাফিকে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অর্ধেক সময়ে তাকে ইঞ্জুরি নিয়ে হাসপাতালে কাটাতে হয়েছে। অসংখ্য বার নিজেকে শোপে দিতে হয়েছে ডাক্তারের ছুরি কাচির নিচে তবুও মুখে যেনো একটা বিনয়ের হাসি লেগেই থাকে বরাবর। ভক্তদের জন্য মাশরাফির দরজা সবসময় খোলা। মানুষের ভালবাসা বুক পেতে নেন তিনি। এটাই তার জীবনের চালিকা শক্তি। ক্রিকেটের জগত থেকে বিদায় নিয়ে মাশরাফি এখন নড়াইলের এম.পি। রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য মাশরাফি এখন নিজ এলাকা থেকে শুরু করে সমগ্র দেশের উন্নতি করতে বদ্ধ পরিকর।

Leave a Comment